...

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এআই ভিত্তিক টেক্সটাইল অটোমেশন বিষয়ক সেমিনার

মো. মাহদী হাসান চৌধুরী প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৫

বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় এবং অটোমেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ভূমিকা ও সম্ভাবনা নিয়ে দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে “ইন্টেগ্রেটিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি অটোমেশন” শিরোনামে এই সেমিনারটি আয়োজিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আইইবি’র সভাপতি ও রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম (রেজু)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সহ-সভাপতি (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল) ইঞ্জিনিয়ার খাঁন মঞ্জুর মোরশেদ, আইটিইটি-বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুজ্জামান (সিআইপি), আইইবি’র সহ-সভাপতি (এইচআরডি) ইঞ্জিনিয়ার শাইখ আল আমিন, সহ-সভাপতি (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া ও আইটিইটি-বাংলাদেশের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. সাব্বির মোস্তাফা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুটেক্সের টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. খ মো. মমিনুল আলম।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ) ও আইইবি’র সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার সুমায়েল মো. মল্লিক এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদুর রহমান।

সেমিনারের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম) বলেন, ”বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প আজ এক বিশাল সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। তবে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে চিন্তা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, এখন সময় এসেছে প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার। বিশেষ করে টেক্সটাইল সেক্টরে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো ছাড়া বিশ্ববাজারে টিকে থাকা কঠিন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কম সময়ে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। জাপানি বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলো যেভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের মান নিয়ন্ত্রণ করে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে। আমরা যদি সঠিকভাবে অটোমেশন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি, তবে উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি শতভাগ গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।”

বুটেক্সের টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ মো. মমিনুল আলম বলেন, ”বর্তমানে সুতার মান যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করতে হয়। আমরা একটি সেন্সরভিত্তিক স্বল্পমূল্যের ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে মাত্র কয়েক হাজার টাকায় মোবাইলের মাধ্যমে সুতার সূক্ষ্মতা, অনিয়ম ও রঙের ভিন্নতা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির ফলে কোনো ভারী যন্ত্র ছাড়াই মাঠপর্যায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুতা ও ফেব্রিক পর্যবেক্ষণ, ত্রুটি শনাক্ত এবং গ্রাফভিত্তিক নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এতে সময়, শ্রম ও খরচ কমে দেশের টেক্সটাইল ও ডেনিম শিল্প আরো দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এহসানুল করিম কায়সার আইটিইটিকে একটি অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ”এই সংগঠনের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো পেশাগত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের দক্ষ করে তোলা। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে এআই ভিত্তিক এ ধরণের সেমিনার প্রকৌশলীদের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী।”

আইইবি’র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাইখ আল আমিন বলেন, ”যখনই কোনো নতুন প্রযুক্তি আসে, তখন শুরুতে কিছু ভীতি কাজ করে। কিন্তু সময়ের সাথে তা গ্রহণ করতে পারাটাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শিল্প উদ্যোক্তাদের দেখতে হবে কোন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবশ্রমের অনুপাত ঠিক রেখে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। শুধুমাত্র সেই প্রযুক্তিই দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হবে যা ব্যবসায়িক মুনাফা নিশ্চিত করবে।”

সংগঠনটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া তার বক্তব্যে গবেষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ”আপনারা এমন প্রযুক্তি বা সমাধান নিয়ে কাজ করুন যা সরাসরি শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব এবং যার ফলাফল প্রভাবশালী হবে। তিনি প্রকৌশলীদের অনুরোধ করেন এমন সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল তৈরি করতে যা আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সহজেই খাপ খাওয়ানো যায়।”