বাকৃবি প্রতিনিধি:
“আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়া গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয় এক এতিম শিশুর মায়ের কাছে লেখা ছোট্ট একটি চিঠি। নেটিজেনদের অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে সমবেদনা জানিয়েছেন, কেউবা কান্নার ইমোজি দিয়ে নিজের কষ্ট প্রকাশ করেছেন। তবে সেই ভার্চুয়াল সহানুভূতির ভিড়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান।
জানা যায়, প্রায় দুই দিন ধরে অনুসন্ধানের পর অবশেষে শিশুটির পরিবারকে আজ তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে খুঁজে পান। খোঁজ পেয়ে তিনি শিশুটির পরিবারের সাথে দেখা করেন। এতিম শিশুটির সাথে কথা বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। এরপর চিঠিতে উল্লেখ করা প্রতিটি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেন তিনি।
শিশুটির জন্য তিনি পর্যাপ্ত সাবান, খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি, বিছানার চাদরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন।
শুধু তা-ই নয়, যাতে অভাব ও অসহায়ত্বের কারণে তার শিক্ষা বন্ধ হয়ে না যায়, তাই আতিকুর রহমান শিশুটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমূদুল হাসান শিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ আতিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটি সত্যি গর্বের। আসুন, রমজান মাসে ভালো কাজ করে দেশকে কে বদলে দেই। প্রতিটি মানুষ যেন একজন মানুষের জন্য কিছু করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকৃবি ছাত্রদলের আহবায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিশুটির চিঠিটি পড়ার পর থেকে আমি স্থির থাকতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, শুধু স্ক্রিনে দেখে আফসোস করা আমাদের দায়িত্ব নয়। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের বিপদে সরাসরি পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার উচিত।’
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







