ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের কিছু সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, পেন্টাগনের গোপন সূত্রের বরাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের দোহায় অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতিমধ্যে কয়েক শ সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। একই সঙ্গে বাহরাইন থেকেও সেনা কমানো হয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় রয়েছে।
এর আগে আল-জাজিরা জানিয়েছিল, সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এক চিঠিতে সতর্ক করে জানায়, ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে অবস্থানরত শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায় ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা কমানো হলেও ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোতে এখনো মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসন ও পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রয়োজন হলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ|মূলসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস







