২০২৬ সালে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের জন্য সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ছুটির ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে। আরবি মাস শাবান অনুযায়ী চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদ মার্চের ২০ বা ২১ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদি রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়, তাহলে ঈদ ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি মোট পাঁচ দিন। সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, ঈদের সরকারি ছুটি ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ২৩ মার্চ সোমবার পর্যন্ত চলবে। এছাড়া ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবে কদরের সরকারি ছুটি আগেই নির্ধারিত আছে। এরপর ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে ১৯ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি
এই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ছুটিতে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটিতে থাকতে পারবেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে রোজার প্রথমদিকে নিয়মিত ক্লাস চালু থাকলেও হাইকোর্টের রিটের মাধ্যমে রোজা শুরু থেকে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়েছে।
যাতায়াত ও ভোগান্তি
প্রতিবছর ঈদের সময় অসংখ্য মানুষ ঢাকাসহ শহরগুলো থেকে গ্রামাঞ্চলে ফিরেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে ভিড় উপচে পড়ে। দীর্ঘ ছুটি থাকলে এই ভোগান্তি অনেকটা কমে আসে। তাই সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাড়তি ছুটিরও ব্যবস্থা করেছেন।
ঈদের ছুটি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট
আগের বছরগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উভয় ক্ষেত্রে তিন দিনের ছুটি দেওয়া হতো। এই তিন দিনে ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন এবং পরের দিন ছুটি থাকে। কিন্তু এই সময়ে মানুষ বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য গণপরিবহন ও রাস্তায় বিপুল চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রাপথে বসে থাকার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ছুটি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার শবে কদরের ছুটির পর নির্বাহী আদেশে একদিন বাড়তি ছুটি ঘোষণা করেছিল, যার ফলে ঈদুল ফিতরের মোট সরকারি ছুটি পাঁচ দিন হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। দীর্ঘ ছুটির ফলে মানুষ ঢাকার আশপাশের মহাসড়কে তৈরি হওয়া যানজটের চাপ কিছুটা কমে আসে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
সরকারি ছুটির দিনগুলিতে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ফলে সব বেসরকারি চাকরিজীবী সরকারি ছুটির সমান ছুটি পাবেন না।
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে সরকারি চাকরিজীবীরা ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। শবে কদর এবং স্বাধীনতা দিবসের ছুটি মিলিয়ে যথাযথ নৈমিত্তিক ছুটি নিলে টানা ১০ দিনের ছুটি কাটানো সম্ভব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ ছুটি থাকায় ঈদের সময় যাতায়াতের চাপ কমে আসবে এবং মানুষ বাড়ি ফিরতে তুলনামূলক স্বস্তিতে পারবেন।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: বিবিসি বাংলা







