অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এবারের শ্রদ্ধা নিবেদনে যুক্ত হলো নতুন এক দৃশ্য। প্রথমবারের মতো ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রহর শুরু হলে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় চেতনার প্রতীক। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। দলটির নেতারা বলেন, “একুশের চেতনা- ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ- সব রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে।”
জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতির প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান শহীদ মিনার দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিগুলোর প্রতীকী মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে প্রথমবারের মতো জামায়াত আমিরের শ্রদ্ধা নিবেদনকে অনেকেই দেখছেন একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে— জাতীয় দিবসগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃহত্তর জনপরিসরে উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে।
তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পুরো আয়োজনে ছিল নীরবতা, ফুলেল শ্রদ্ধা এবং সংক্ষিপ্ত অবস্থান।
প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে সমবেত হন। তাদের সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ এবারের একুশ উদযাপনে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক অনন্য মাইলফলক। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতায় নতুন এই উপস্থিতি রাজনৈতিক পরিসরে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এন। সূত্র: সময়ের আলো







