শাহরিয়ার ইমন, শেকৃবি প্রতিনিধি
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড ঢাকা উত্তরের কমিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। নতুন কমিটিতে এলাকা প্রীতি ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড গত ৮ ই জানুয়ারি সংগঠনটির ২০২৬ এর কমিটি প্রকাশিত হয়েছে সেখানে একটি নির্দিষ্ট এলাকার (উত্তরবঙ্গ) লোকজনকে স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধান করে দেখা যায়, বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড ঢাকা উত্তরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪১ টি পদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২০ জন ছেলের মধ্যে ১৩ জন এবং ২১ জন মেয়ের মধ্যে ৮ জন ওই নির্দিষ্ট এলাকার। যা মোট কমিটির ৫২ শতাংশ। এছাড়াও বাকি ৪৮ শতাংশের মধ্যে অনেকেই ৫২ শতাংশের পরিচিত ব্যক্তি।
আরো অভিযোগ উঠেছে, সকল কাজে উপস্থিত এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে কমিটিতে পদ পাননি। কিন্তু অনেকে কাজ না করে এবং কোন কিছুতে অ্যাক্টিভ না থেকে বড় ভাইয়ের এলাকার হওয়ায় পদ পেয়েছেন ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী দুঃখ প্রকাশ করে জানান, “আমি বিডিবিও এর একজন সাবেক মেম্বার। সাবেক বললাম এই কারণেই যে বিডিবিও আমার কাছে সম্পূর্ণ একটা বঙ্গকেন্দ্রিক ক্লাব মনে হয়েছে। কেননা আমি বিডিবিও এর মোটামুটি সব ক্লাব মিটিংয়েই উপস্থিত ছিলাম(কিছু প্রবলেমের কারণে ২-৩ টা মিস যাইতে পারে)। রিজিওনাল, ন্যাশনাল এবং বায়োক্যাম্প ৩ জায়গাতেই উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু যখন নতুন কমিটির জন্য ভাইভা নেয়া হলো তখন আমিসহ আরও অনেকে যারা এর সাথে জড়িত ছিল তাদের একবার জানানো পর্যন্ত হয়নি। এমনকি যাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের প্রত্যেককে পার্সোনালি মেসেজ অথবা ফোন দিয়ে ডেকে আনা হয়েছে। কমিটিতে থাকা না থাকা কোন ম্যাটার না কিন্তু সকল প্রোগ্রাম এটেন্ড করার পরও যখন না জানায়েই নিজেদের মধ্যে সবকিছু ভাগাভাগি করে নেয় তখন বিষয়টা খুবই খারাপ লাগে। আর যখন কমিটির প্রকাশিত হইলো তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে সম্পূর্ণ একটা পক্ষের একছত্র আধিপত্য এখানে বিরাজমান।”
আরো একজন শিক্ষার্থী জানান, “কমিটি ঘোষণার আগে একটা ভাইবা হয়েছিল সেখানে যাদেরকে ডাকা হয়েছিল সবাইকে রাখা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত । ছেলেদের ক্ষেত্রে বঙ্গ দেখা হয়েছে এবং বাকি যারা পদ পেয়েছে তারা ভাইয়ের কাছের লোক ।”
এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. জামিলুর রহমান জানান, “কমিটির বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নাই। ছাত্ররা কাজ করে নেতৃত্ব দেয় আমরা অভিভাবক হিসেবে তাদের সবকিছু দেখভাল করি। পূর্ববর্তী যারা দায়িত্বশীল থাকে তারাই কমিটির বিষয়গুলো দেখাশোনা করে।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরো জানান, “একটা ভলেন্টিয়ারি প্রোগ্রামে যদি এই ধরনের বাইসনেস চলে আসে সেটা শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভবিষ্যতের জন্য খুবই হুমকি স্বরূপ । আমি আশায় রাখবো এই ধরনের প্র্যাকটিসের যেন ভবিষ্যতে আর কখনো না হয়। এগুলোর মাধ্যমে নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে যায়।”
সাবেক কমিটির জেনারেল সেক্রেটারী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আল-শাহরিয়ার আকন্দ জানান, “প্রতিবছর আমাদের ক্লাবে অনেক মেম্বার আসে তাদের অ্যাটেনডেন্স এবং সার্বিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে আমরা কিছু সংখ্যা শিক্ষার্থীকে ভাইবাতে ডাকা হয়। এবং তাদের মধ্য থেকে ঘোষণা করা হয়। এখানে লাস্ট দুইটা অ্যাটেনডেন্স কাউন্ট করা হয়েছে সেখানে যারা ছিল তাদেরকে ভাইবাতে ডাকা হয়েছে।”
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







