নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সহিংসতা ও অপরাধের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলগুলোতে অস্ত্রের দাপট, খুনোখুনি ও নানা অপরাধে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দেড় বছরে জেলায় খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ মাসে নরসিংদীতে অন্তত ১৪৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ৯৫টি ধর্ষণ মামলা, অসংখ্য ছিনতাই এবং ১৯৫টি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মামলা হলেও অধিকাংশ আসামি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় ৮২৬ বন্দি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আট হাজারের বেশি গুলি লুট হয়। দেড় বছরে এসব অস্ত্রের মধ্যে ৫৮টি উদ্ধার করা হলেও এখনও ২৭টি অস্ত্র ও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার গুলি উদ্ধার হয়নি।
এই লুট হওয়া অস্ত্রগুলো আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক ও অবৈধ বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে মাসভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে সহিংসতার প্রবণতা কমেনি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও নতুন করে সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল—বিশেষ করে বাঁশগাড়ী ও সায়দাবাদ এলাকায়—অপরাধীরা প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নিবারণ রায় বলেন, রায়পুরা ও নরসিংদী সদর উপজেলায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে ভোটগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযানে কিছু অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং নির্বাচনের আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সচেতন মহলের মতে, নরসিংদীতে সহিংসতার পেছনে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি এখন তুচ্ছ ঘটনাকেও কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটছে, যা জেলার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: সময় নিউজ







