খুবি প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ’২২ ব্যাচের শিক্ষা সফর
শিক্ষাজীবনের নিয়মিত ক্লাস, ল্যাবরেটরি আর পরীক্ষার ব্যস্ততায় আবদ্ধ দিনযাপন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জীবনকে যান্ত্রিক করে তোলে। সেই একঘেয়েমি থেকে সাময়িক মুক্তি নিয়ে পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ’২২ ব্যাচ সম্প্রতি অংশ নেয় সাত দিনের এক শিক্ষা সফরে। চতুর্থ বর্ষের “Agriculture Study Tour and Field Visit” কোর্সের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সফর ছিল শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির সংমিশ্রণে এক পরিপূর্ণ অনুশীলন।
সফরের সূচনা হয় গাজীপুরে। শিক্ষার্থীরা প্রথমেই পরিদর্শন করে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং একাডেমি (NATA), যেখানে কৃষি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে তারা বাস্তব ধারণা লাভ করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি গবেষণা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, ফসল ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায়।

গাজীপুরেই অবস্থিত CCDB Climate Centre সফরটিকে নতুন তাৎপর্য এনে দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অভিযোজন কৌশল এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবেশ ও কৃষির আন্তঃসম্পর্ককে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে সহায়তা করে।
পরবর্তী যাত্রাপথে গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের সামনে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST) ঘুরে দেখার মাধ্যমে তারা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে।
সফরের সিলেট পর্ব শিক্ষার্থীদের সামনে উন্মোচন করে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ। সাদা পাথর, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, লালাখাল, জাফলং ও শ্রীমঙ্গল এসব স্থানে ভ্রমণ তাদের শিক্ষাসফরকে এনে দেয় নান্দনিকতার ভিন্ন মাত্রা। স্বচ্ছ নদীর জল, পাহাড়ঘেরা সবুজ ভূমি, চা–বাগানের বিস্তার এবং প্রকৃতির প্রশান্ত নীরবতা শিক্ষার্থীদের মানসজগতে সৃষ্টি করে গভীর অনুরণন। বিশেষত রাতারগুলের জলবন এবং লালাখালের নীলাভ জলধারা সফরের স্মৃতিতে হয়ে ওঠে অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BTRI) এবং ফিনলে টি এস্টেট পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, গবেষণা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে। কৃষিভিত্তিক পেশাজীবনের প্রস্তুতিতে এই অভিজ্ঞতা তাদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে বলে তারা মনে করে।
এই শিক্ষা সফর কেবল ভ্রমণ নয়; এটি ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্বগুণ বিকাশ এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সাত দিনের এই যাত্রায় অর্জিত শিক্ষা, স্মৃতি ও প্রকৃতির সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পথচলায় দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এগ্রোটেকনোলজি ’২২ ব্যাচের এই শিক্ষা সফর প্রমাণ করে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বাস্তবতার স্পর্শে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে এবং অভিজ্ঞতার আলোয় তা পূর্ণতা পায়।
এই শিক্ষা সফরে গাইড শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ড. মোঃ মতিউল ইসলাম এবং প্রফেসর ড. দেবেশ দাস।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এমকে







