বেরোবি প্রতিনিধি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া জামাতপন্থী রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে তার জন্য বরাদ্দ পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল।
আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জালিয়াতি ও নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে সোচ্চার থাকায় ওসব শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে সরানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। এছাড়াও তিনি জামাতপন্থী হওয়ায় তার নির্বাচনের ছুটির পরপর তার নিয়োগ বাতিল করা হয়। তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, নির্বাচনকালীন ছুটির পরদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সাথে দফায় দফায় কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা মিটিং করেন। মিটিংয়ে রেজিস্ট্রারের নিয়োগ দুইএকদিনের মধ্যে বাতিল করার দাবি উঠে।
রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তাকে ফোন করে অফিসে না আসতে এবং ছুটিতে থাকতে বলেন, তবে তিনি তাতে সম্মত হননি। রোববার সকালে অফিসে গেলে তাকে ফোন করে অফিস ছাড়তে বলা হয়। পরে দুপুরে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম তার দপ্তরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে তাকে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংসহ বিভিন্নভাবে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে জানানো হয়, তার জন্য পরিবহন সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। পরে তিনি রিকশাযোগে বাসায় ফেরেন। এছাড়া একটি দল তার দপ্তরে এসে কোনো ফাইল যেন তার কাছে না যায় এবং দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সরে যেতে বলে গেছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে সেটি অন্য বিষয়ে ছিল। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না এবং মন্তব্য করার এখতিয়ারও নেই। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।পরিবহন সুবিধা বাতিলের বিষয়ে জানতে পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমার কাছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার (রেজিস্ট্রার) বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর বেরোবিতে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পান ড. হারুন অর রশিদ। মেয়াদ শেষে পুনরায় আরও এক বছরের জন্য তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ শুরু থেকেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করে স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে স্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২২ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, কোন কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ( অর্থ ও হিসাব), পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত দায়িত্ব বা চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি/ সামরিক কর্মকর্তা এবং ক্ষেত্র বিশেষে কলেজের শিক্ষকগণকে চুক্তিভিত্তিক/ খন্ডকালীন নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে, প্রশাসনিক কার্যাদি সুচারুরূপে সম্পাদনে বিঘ্নতার সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন/প্রবিধান অনুযায়ী উল্লিখিত পদসমূহে পূর্ণকালীন নিয়োগ প্রদান প্রয়োজন।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







