ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে জরুরি প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকায় রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকে ভোট দিতে শহর ছেড়ে গ্রামের পথে রওনা হওয়ায় যাতায়াতে বেড়েছে চাপ। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইল কলে সাময়িক বিভ্রাট ও কল ড্রপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সময়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক থাকবে কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও সরকার ও মোবাইল অপারেটররা আশ্বস্ত করেছে, নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ মানের মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করতে অপারেটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সমাধানে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ সাপোর্ট টিম প্রস্তুত থাকবে। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নেটওয়ার্কে কোনো ধরনের জ্যামার ব্যবহার করা হবে না।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করবেন। ফলে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা সচল ও স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্টরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটরগুলোও বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ইমার্জেন্সি টিম গঠন করা হয়েছে। রবির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, ব্যাকআপ পাওয়ার এবং কারিগরি টিম প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। বাংলালিংক জানিয়েছে, বিটিআরসি ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি জানিয়েছে, ভোটের সময় সংযোগে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই দিন বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবেন ব্রডব্যান্ড ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নির্বাচন ঘিরে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ|মূলসূত্র: কালের কণ্ঠ







