লা লিগায় পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় যখন আবারও হতাশাজনক এক রাতের অপেক্ষায় ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা, ঠিক তখনই দৃশ্যপট বদলে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি তারকা। এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে একে নামিয়ে আনল কার্লো আনচেলত্তির দল।
২২ ম্যাচ শেষে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সংগ্রহ ৫৫ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট এখন ৫৪। শিরোপা লড়াইয়ে উত্তেজনা তাই আরও বেড়ে গেল।
ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। বলের দখল ও আক্রমণের ধারায় এগিয়ে থাকলেও রায়ো ভায়েকানোও সহজে মাথা নত করেনি। সংগঠিত রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে স্বাগতিকদের চাপে রাখার চেষ্টা করে অতিথিরা।
ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় রিয়াল, যখন চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন জুড বেলিংহাম। তবে সেই ধাক্কা সামলে ১৫ মিনিটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয় স্বাগতিকরা। একক নৈপুণ্যে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়ার। এই গোলের মাধ্যমে লা লিগায় দীর্ঘ ১৪ ম্যাচ পর গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সর্বশেষ ৪ অক্টোবরের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম লিগ গোল।
গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রায়ো ভায়েকানো। প্রথমার্ধে কয়েকবার রিয়াল রক্ষণকে চাপে ফেললেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। বিরতিতে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে অবশ্য আর সময় নষ্ট করেনি ভায়েকানো। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে দলীয় আক্রমণ থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গোল করেন হোর্হে দে ফ্রুতোস। সমতায় ফেরার পর ম্যাচে নতুন গতি আসে, আর রিয়ালও আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয়।
৬৪ মিনিটে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে রিয়ালকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। একা পেয়েও বেলজিয়ান এই গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে ব্যর্থ হন ভায়েকানোর আন্দ্রে রাতিও। পাল্টা আক্রমণে ৬৮ মিনিটে সুযোগ পান এমবাপ্পেও। গোলরক্ষককে কাটিয়ে খালি পোস্টে নেওয়া তাঁর শট আঘাত হানে ক্রসবারে—নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় রিয়াল।
ম্যাচের শেষ ভাগে ভায়েকানোর এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় অতিথিরা। তবুও সংগঠিত রক্ষণে রিয়ালের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে যেতে থাকে তারা। পোস্টে লেগে ফেরে রিয়ালের একটি শট, বাড়তে থাকে হতাশা।
তবে সব নাটক জমা ছিল যোগ করা সময়ের জন্য। অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের জন্য পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। আর দশম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে ২–১ ব্যবধানে জয়ের আনন্দে ভাসান এমবাপ্পে।
এই জয়ে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ, আর মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলল শীর্ষস্থানীয় দুই জায়ান্টের পয়েন্ট ব্যবধান।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: প্রথম আলো






