দুনীর্তি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এখন বিশ্রামে যাও। এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও।’
আজ বুধবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট- একটি ‘হ্যাঁ’, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।
এ সময় অন্য দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুনীর্তি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ করবো।’
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের বিজয় চাই না ; আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি হ্যাঁ ভোটের বিজয় চাই। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়। এতে নতুন বাংলাদেশ পাবো।’
কেউ কেউ প্রথমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিলেন না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরে যখন দেখে অবস্থা খারাপ, তখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল না। আমরা দেশে ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমরা দেশে আছি দেশেই থাকবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদল ভয়ে আছেন। ভয়ের কারণ নেই। আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দেবো, তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দেবো না। আমরা নারী জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’
তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আমার জীবন দেব। তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যে কোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। আমরা বুড়িমারী স্থলবন্দরের উন্নয়ন করবো। সড়ক পথ ও রেলপথের উন্নয়ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল অবহেলিত। এ অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপন করা হবে। দীর্ঘদিন এ জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলবাজ ব্যবসা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। উত্তর অঞ্চলে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে।’
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, ১০ দলীয় জোটের নেতারা। এর আগে জামায়াতের আমির কুড়িগ্রাম থেকে তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে হেলিকপ্টারে আসেন।
পাবলিকিয়ান টুডে/ আয়নুল|ফেসবুক







