নরেন্দ্র মোদি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জেরুসালেমে অবস্থিত নেসেট-এ এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। সেখানে তিনি ভারতীয় উৎসের ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তারা বিশ্বাস করে ইসরায়েল তাদের পিতৃভূমি এবং ভারত তাদের মাতৃভূমি—এ নিয়ে ভারত গর্বিত।
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও ইসরায়েল দুটি প্রাচীন সভ্যতা, যাদের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-এর হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা যায় না এবং সন্ত্রাস বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।
ইসরায়েলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মোদি বলেন, ভারত এই কঠিন সময়ে ইসরায়েলের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রতিও ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।
নেসেটের স্পিকারের কাছ থেকে “স্পিকার অব দ্য নেসেট মেডেল” গ্রহণ করে তিনি এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। ভাষণ শেষে নেসেট সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান।
এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর; এর আগে তিনি ২০১৭ সালে প্রথমবার দেশটি সফর করেন। সফরকালে তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আইজ্যাক হারজোগ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও তিনি মতবিনিময় করেন।
ভারতে ইহুদি সম্প্রদায়ের দীর্ঘ শান্তিপূর্ণ বসবাসের বিষয়টিও ভাষণে উঠে আসে। পাশাপাশি ইসরায়েলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদিদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: মানবজমিন







