ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ হয়।
বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে এলাকাজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের সড়কে পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া চলে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশের একটি জলকামান গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শাহবাগ থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী মিলিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারে তাদের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার এবং রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নাম উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সড়ক ছেড়ে দিতে বললে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও যমুনা সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: কালের কন্ঠ







