চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরান জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। বুধবার সকালে এ কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হতে আর প্রায় তিন মাস বাকি। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফিফা প্রধান আশাবাদ জানিয়েছেন যে টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জন করা ইরান দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা ইরানের। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ।
সম্প্রতি ইরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টে ইরান খেলবে কি না—তা নিয়ে তাঁর তেমন মাথাব্যথা নেই।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইনফান্তিনো বলেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নিশ্চিত করেছেন যে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে স্বাগত জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বিশ্বকাপের মতো আয়োজনের প্রয়োজন বেশি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সমর্থনের জন্য তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।
এর আগে ফিফার বিশ্বকাপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শিরগি বলেছেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টুর্নামেন্ট পেছানোর সুযোগ নেই। কারণ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি বিশাল পরিসরের। তবে সংস্থাটি প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, কোনো এক পর্যায়ে পরিস্থিতির সমাধান হবে এবং যোগ্যতা অর্জন করা সব দলই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে বলে ফিফা আশা করছে।
তবে আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ফিফা তাদের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকারও কেড়ে নিতে পারে। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। তিন বছর আগে ইন্দোনেশিয়া অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ইসরায়েল দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানালে ফিফা তাদের কাছ থেকে আয়োজকত্ব বাতিল করে টুর্নামেন্টটি আর্জেন্টিনায় সরিয়ে নেয়।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: প্রথম আলো







