জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাবি) কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও ‘সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল’-এর অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতাকর্মীরা
।রবিবার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বরাবর স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়। এসময় অবিলম্বে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নারীদের ক্ষেত্রে বেশি করে লক্ষ্য করে লিঙ্গবিদ্বেষী ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্লাটশেমিং ও সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হলেও তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অনলাইন নিপীড়নে রূপ নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর একাধিক সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এসব অনলাইন হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত কিছু ফেসবুক পেজ ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট যেমন ‘জাবিয়ান সুশীল সমাজ’, ‘JU Update’, ‘জাকসু নিউজ’, ‘জাকসু আপডেট’ ও ‘JU Crush and Confession’ এর মাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দাবিগুলো হলো: সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা, জাকসুর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া ও অপপ্রচারমূলক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখে ঘৃণামূলক আচরণ প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়ন।
এসময় জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, “এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সহনশীল, মানবিক ও প্রগতিশীল চরিত্র রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।”







