এনামুল হোসেন, ববি প্রতিনিধি
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতির তালিকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) তিন শিক্ষকের নাম এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষক দাবি করেছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তাদের সম্মতি ছাড়া কীভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হলো, সেটিও তারা জানেন না।
তালিকায় থাকা তিন শিক্ষক হলেন—লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান,
মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইউম, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবু জাফর মিয়া।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশিত বিবৃতির তালিকায় তাদের নাম দেখা যায়।
এ ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ—এ ধরনের ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, তিন শিক্ষককে গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তারা বিবৃতি সম্পর্কে অবগত নন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ববি শাখার সাবেক আহ্বায়ক রাকিব আহমেদ বলেন, “এই তিন শিক্ষককে অবশ্যই আগামীকালকের মধ্যে গণমাধ্যমে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে যে তারা বিবৃতি সম্পর্কে জানতেন না। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা তাদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার কর্মসূচি বিবেচনা করবে।”
অভিযোগ রয়েছে যে, শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বেও ছিলেন। এছাড়াও ২৪ সালের ৩ আগস্ট ববি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়েও এসব শিক্ষক বক্তব্য রাখেন।
তবে তারা সবাই বিবৃতির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু জাফর মিয়া বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কোনোভাবে আমার সম্মতি নেওয়া হয়নি এবং কোথাও আমি নামও দেইনি।”
মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইউম বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না। কোথায় কী দেয়া হয়েছে, এখনো দেখিনি।”
লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে কেউ জিজ্ঞেসও করেনি, কোনো যোগাযোগও করেনি। আমি কিছুই জানি না।”
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক
