ঢাকার ডেমরা থানাধীন ত্রিমোহনী বাজার থেকে কাচারি কায়েতপাড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এবং স্থানীয় নলছাটা ডকইয়ার্ডের ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে রাস্তাটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, বালু নদী দখল এবং অতিরিক্ত ওজনের মালামাল পরিবহনের কারণেই আজ এই জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোয় একাকার হয়ে থাকে এলাকাটি। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডেমরা ৭০ নং ওয়ার্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক জানান, তিনি একজন প্যারালাইজড রোগী। রাস্তার এই করুণ অবস্থার কারণে তিনি ঘর থেকে বের হতে পারেন না, এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়াও তার জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি, কিন্তু আজ নিজের এলাকায় একটু শান্তিতে চলাচলের উপায় নেই।
জীবিকার তাগিদে এই রাস্তায় চলাচলকারী এক অটোচালক জানান, রাস্তার গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ি বিকল হচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ২০০ টাকা রোজগার করলে, দিনশেষে গাড়ির মেরামতেই সেই টাকা খরচ হয়ে যায়। আমাদের সংসার চালানোই এখন কঠিন।
এলাকাবাসীর অভিযোগের তীর মূলত নলছাটা ডকইয়ার্ডের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, ডকইয়ার্ডের ধারণক্ষমতার চেয়েও ভারী ট্রাক ও লরি এই সরু রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচল করে, যা রাস্তাটি ধ্বংসের মূল কারণ। খোদ ডকইয়ার্ডের মালবাহী ট্রাকের এক চালকও স্বীকার করেছেন যে, তাদের ভারী যানবাহনের কারণেই রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে এবং ডকইয়ার্ড মালিকদেরই এটি সংস্কার করা উচিত।ডগইয়ার্ডের পাশেই একটি মাদ্রাসা রয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শব্দ দূষণের কারণে তাদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটে।
শুধুমাত্র রাস্তা নষ্ট করাই নয়, ডকইয়ার্ডটির বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা জানান:ডকইয়ার্ডের কাগজপত্রে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে।বালু নদীর সীমানা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।বিআইডব্লিউটিএ’র (BIWTA) সীমানা পিলার ভেঙে নদী ভরাট ও দখল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের প্রভাবের কারণে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ডকইয়ার্ডের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।
ত্রিমোহনী ও কায়েতপাড়া এলাকার হাজারো মানুষের এখন একটাই দাবি—দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে সংস্কার করা হোক। একইসাথে, বালু নদী দখলমুক্ত করতে এবং ডকইয়ার্ডের অবৈধ কর্মকাণ্ড ও বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এম | ফেসবুক
