পৈতৃক জেলা বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিকে ঘিরে মধ্যরাতেও জনসমুদ্রে রূপ নেয় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ। নির্বাচনি জনসভা হলেও নিজের জেলার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “ঘরের মানুষের কাছে বলার কিছু থাকে না।” তবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বগুড়াবাসীর প্রতি।
বৃহস্পতিবার নওগাঁর জনসভা শেষ করে রাত গভীর হলে বগুড়া শহরে পৌঁছান তারেক রহমান। মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও তাকে একনজর দেখতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হন লাখো মানুষ। স্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, সৃষ্টি হয় এক ব্যতিক্রমী ‘জনতরঙ্গ’।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বগুড়ার মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে যেন অন্য কারও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।”
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য টেনে তিনি বলেন, এবার শুধু বগুড়ার উন্নয়ন নয়, বগুড়াবাসীকেই দেশের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে হবে। শুধুমাত্র নিজেদের কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তারেক রহমানের। তিনি বলেন,
“এই মুহূর্তে আপনাদের কিছু দেবার নেই আমার। আজ শুধু চাইবার আছে। ঘরের মানুষ হিসেবে আপনাদের কাছেই চাইছি। এত রাত পর্যন্ত রাজনীতি করা, মিটিং করা—সবই সম্ভব হয়েছে আমার স্ত্রীর সহযোগিতায়। জুবাইদা রহমান পাশে না থাকলে আমি পারতাম না।”
উল্লেখ্য, তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রচার গাড়ি থেকে শুরু করে জনসভার মঞ্চ—সবখানেই তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।
স্ত্রীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বগুড়াবাসীর প্রতিও একই ধরনের সমর্থন প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন,
“আপনারা যদি আমাকে মানসিক শক্তি দেন, পাশে থাকেন- ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে একটি ভালো ও শক্তিশালী ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারব।”






