চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোট দশজন প্রতিনিধির মধ্যে অন্তত চার-পাঁচজন প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’ নন এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো অংশগ্রহণও ছিল না—যা শিক্ষার্থী মহলে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
রাবিপ্রবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক সাদ্দাম হোসেন (সহকারী অধ্যাপক) জানান, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরে থাকায় রাবিপ্রবি’র একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’কে প্রতিনিধি মনোনয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই শিক্ষার্থী মোট ১৭ জনের তালিকা তৈরি করে আমার কাছে জমা দেন। তবে সর্বোচ্চ দশ জনের অনুমতি থাকায় বাকিদের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে প্রশাসন যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত দশজনকে অনুমোদন দেয়।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বাদশা সুলেমান বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রহসন করেছে। কোন যুক্তিতে এমন ভুয়া জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আহতদের প্রতিনিধিত্ব করা হলো?”
অন্য একটি স্ট্যাটাসে মাবরুর আবিদ বলেন, “ইউজিসি’র বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত শিক্ষার্থীদের কথা। কিন্তু রাবিপ্রবি থেকে কোন প্রকৃয়ায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।”
শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব এককভাবে একজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া নিছক দায়িত্ব পালন নয়, বরং এটি পুরো আন্দোলনের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ণ করেছে। ভবিষ্যতে প্রতিনিধি মনোনয়ন আরও উন্মুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।






