চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণে ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা জানান, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই দুই পদই শূন্য। গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। এর আগে আগস্টে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন।
তিনি বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে এবং স্পিকার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এ অবস্থায় তাঁদের দিয়ে শপথ গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও আয়োজন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এ প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, আইন অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ গ্রহণ করাতে অক্ষম হলে রাষ্ট্রপতি প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে মনোনীত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির নাম উল্লেখ করেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, যদি নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠিত না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ পড়াতে পারেন। তবে সরকার চায় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করতে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত মতামত প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: প্রথম আলো







