শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের উপর পুলিশের ফ্যাসিবাদী কায়দায় হামলার জবাবে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার’স সোসাইটি, রাবিপ্রবি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাবিপ্রবির বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান।
হাদি হত্যার বিচার দেরিতে হওয়ায় দু:খ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা চাইনি দিনে-দুপুরে মৃত্যুর পরেও এতদিন ধরে আন্দোলন করতে হবে। আবার যারা বিচার চাইছে, তাদের উপর পুলিশের হামলা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এখনো পর্যন্ত পুলিশের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ঘাপটি মেরে আছে। রাষ্ট্রের উচিত তাদের খুঁজে বের করা, যারা হামলার সাথে জড়িত ছিলো। কথায় কথায় ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ, গুলি করা, এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।”
ড. মোঃ মিজনুর রহমান বলেন, “শহীদ ওসমান হাদী আমদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে অল্প সময় বেঁচে থেকেও একটা পজিটিভ ইম্প্যাক্ট রেখে যাওয়া যায়। দুষ্কৃতিকারীদের হাতে তার হত্যার বিচারের জন্য যদি আমাকে রাস্তায় দাঁড়াতে হয় তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলাদেশের কি পরিবর্তন হবে? আমরা জুলাই এনেছি এই সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করার জন্য যেখানে সবাই সিস্টেম অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাবে। ইনকিলাব মঞ্চের নায্য দাবী, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী, তা যেন বাংলাদেশ সরকার কতৃক মেনে নেয়া হয়।”
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার’স সোসাইটি, রাবিপ্রবি’র সভাপতি সবউল চৌধুরী বলেন, “শহীদ ওসমান হাদী সবসময় ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তাই যখন কেউ ন্যায়বিচার পায় না, তখন প্রতিবাদই মানবাধিকার হয়ে দাঁড়ায়।”
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হিউম্যান রাইটস রাবিপ্রবি শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণারত অবস্থায় এই হামলার শিকার হন এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
পাবলিকিয়ান টুডে/ আয়নুল|ফেসবুক
[news_photocard_button text=”ডাউনলোড
ফটোকার্ড”]







