মুন্সিগঞ্জ-এর শ্রীনগর উপজেলায় মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের গুলিতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ।
রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন মিজান খান, তাঁর মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, বাবা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার এবং ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিজি দোলন ও ইভা আক্তার।আহতদের সবাই স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ খান ও তাঁর ছেলে মিজান খানের স্বজন। তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত নয়টার দিকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মিজান খান। এ সময় হারুন ও মান্নান তাকে রাতে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা মিজানকে মারধর করেন। আহত অবস্থায় মিজান বাড়িতে ফিরে ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের জানান।
এরপর মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানালে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, হারুন ও মান্নান ১০ থেকে ১৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে মিজানদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শটগান থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শংকর কুমার পাল জানান, রাত ১২টার পর নারী ও শিশুসহ ১৪ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, এলাকায় হারুন ও মান্নান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তারা পুলিশ মনে করে আতঙ্কিত হন। এ কারণে তারা এলাকায় কাউকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে দেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় বাড়ির নারী, পুরুষ ও শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়ে কাতরালেও হামলাকারীরা কাউকে হাসপাতালে যেতে দিচ্ছিলেন না। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ঘটনার পর রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া জানান, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বৈধ বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এন। সূত্র: প্রথম আলো







