নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিদিন হাজারো পদচারণা, একাডেমিক ব্যস্ততা আর কোলাহলের মাঝেও কিছু নীরব প্রাণের উপস্থিতি চোখে পড়ে কুকুর, বিড়ালের মতো অবলা কিছু প্রাণী, যারা এই প্রাঙ্গণকেই নিজেদের আশ্রয়স্থল বানিয়ে নিয়েছে। অধিকাংশের চোখে তারা শুধু পথপ্রাণী হলেও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন আল মাহমুদের কাছে তারা পরিবারেরই অংশ। ভালোবাসা, দায়িত্ব আর মমত্ব দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ক্যাম্পাসের এসব বোবা প্রাণীর নীরব অভিভাবক।
প্রতিদিনের ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের ফাঁকেও সুজনের দিন শুরু হয় তাদের খোঁজখবর নেওয়ার মধ্য দিয়ে। কোন কুকুরটি খেয়েছে, কোনটি অসুস্থ, কার শরীরে আঘাত লেগেছে কিংবা কার ভ্যাকসিন নেওয়ার সময় হয়েছে সব দিকেই নজর । শুধু খাবার দিয়ে দায় শেষ নয়, প্রয়োজন হলে চিকিৎসা করান, নিয়মিত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করেন। এছাড়াও অসুস্থ প্রাণীদের পাশে থেকে সেবা যত্ন করেন।
কোনো কুকুরের বাচ্চা হলে যেন আরও বেড়ে যায় তার দায়িত্ব। মা কুকুর ও ছোট্ট ছানাগুলোর জন্য আলাদা যত্ন আর নিয়মিত খোঁজখবর নেয়া। সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন তাদের নির্ভরতার জায়গা। ভালোবাসা দিয়ে তিনি তাদের নামও রেখেছেন। টনিক, কুটু পুকিসহ আর লালু। । নাম ধরে ডাকলেই ছুটে আসে তারা আদুরে কুকুর ছানাগুলো। যেন বুঝে যায় এই মানুষটিই তাদের আপন, তাদের অভিভাবক।
সুজনের এই প্রাণীপ্রেম নিছক শখ নয়, এটি তার ব্যক্তিত্বের গভীরে থাকা সহমর্মিতা ও মানবিকতার প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে থাকা এসব প্রাণী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে ক্যাম্পাস জীবনের এক অনিবার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ তাদের সঙ্গে খেলে, কেউ খাবার দেয়, নাম ধরে ডাকে, যেন হলে একটি পরিবারের মতোই। কিন্তু হল বন্ধ হলে কিংবা ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে গেলে এই প্রাণীগুলোর জীবন হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। খাবারের অভাব, অসুস্থতা আর নিরাপত্তাহীনতায় তারা হয়ে পড়ে অসহায় । আর ঠিক তখনই সুজনের মতো কিছু মানুষ হয়ে ওঠেন তাদের একমাত্র অভিভাবক । সুজনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষকরাও এই বোবা প্রাণীদের দেখভাল করে থাকে, খোঁজখবর নেয়।
সুজন তার অনুভূতি ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই বোবা প্রাণীরাও আমাদের সমাজের অংশ। তাদের প্রতি ভালোবাসা ও যত্ন দেখানো শুধু দয়া নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের এই ক্যাম্পাসের ও আবাসিক হলের অবস্থানরত প্রাণীগুলোর যত্নে আমাদের প্রশাসন হল বন্ধের সময়ে খাবারের ব্যাবস্থা, ভ্যাকসিনেশন ব্যাবস্থা নিতে পারে, এতে করে এগুলো আর রেবিস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবেনা। এই কুকুর বিড়ালগুলোকে সময় মত ভেক্সিনেশন করানোটা জরুরী।সাধারনত, ৬ মাস অন্তর ভ্যাক্সিন দিতে হয়। এতে করে এগুলো ঝুঁকি মুক্ত থাকে।ক্যাম্পাসে একটা এনিমেল কেয়ার থাকলে এদের জন্যে খুব ভাল হতো।একটা ব্যাপার খুব জরুরী সেটা হচ্ছে নির্দিষ্ট সংখ্যাক কুকুরকে নিউটার করানো। এতে করে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাবেনা এবং কুকুরগুলো সুস্থও থাকবে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







