ববি প্রতিনিধি
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পুর্নাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষনার পর তীব্র সেশনজটের শঙ্কা জেঁকে বসেছে। নানা সংকটে জর্জরিত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চার বছরের স্নাতক শেষ করতে যেখানে পাঁচ ছয় বছর লেগে যায়, সেখানে হঠাৎ করে শাটডাউন কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের নতুন করে জটের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, উপাচার্য তাদেরকে ইউজিসির নিয়মের জালে ফেলে পদোন্নতি দিচ্ছেন না। এতে গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন আমরণ অনশনে বসেন। এরপর গত সোমবার এক সভা শেষে তারা মঙ্গলবার কর্মবিরতি ও বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষনা দেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ক্লাসরুমে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগেই তালা ঝুলছে। শিক্ষকদের কক্ষও বন্ধ। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ক্লাসরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী না থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে সুনসান নিরবতা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার চলমান একাডেমিক কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদেরকে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার আইন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সময়মতো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হলেও শিক্ষকরা না আসায় তা পুনরায় ফেরত নিতে হয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী শামীম হোসাইন বলেন , বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষক পদোন্নতি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে ,তার জন্য আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো সেটা আজ হচ্ছে না। আমরা জানিনা কবে এই সমস্যার সমাধান হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মারুফ হাওলাদার বলেন, নিজেকে হতাশ মধ্যে ডুবিয়ে ফেলতেছি, আমাদের পরীক্ষা হওয়া কথা ছিলো কুরবানির ইদের আগে কিন্তু সেই পরীক্ষা এখন মনে হয় না ইদের আগে হবে। আমাদের ফরম ফিলাপ ২১ থেকে ২৭ তারিখ মধ্যে হওয়া কথা ছিলো কিন্তু এই বর্তমান পরিস্থিতি আমার ফরম ফিলাপ করতে পারবো না। যদি পরীক্ষা না দিতে পারি তাহলে প্রায় দুই মাস সেশন জট পড়তে হবে। আমাদের ডিপার্টমেন্টের স্যারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমাদের উপর যেন সহনশীল থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাজ্জাদ উল্লা ফয়সাল বলেন, মঙ্গলবার একটি বিভাগের পরীক্ষা ছিলো তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বুধবারেও দুটি বিভাগের পরীক্ষা রয়েছে। আমরা যথাসময়ে উত্তরপত্র পাঠাবো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন,আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি পিছু হটবো না। আমরা গত দুইমাস যাবৎ উপাচার্যের সাথে অনেক মিটিং করেছি কিন্তু কোনো সুরাহা পায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের এ কর্মসূচি গ্রহন করতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনে মধ্যে যেন শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা আওতাভুক্ত না করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানান তিনি শিক্ষকদের প্রতি।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







