যবিপ্রবি প্রতিনিধি
রাত জেগে পড়াশোনা, মোবাইল চালানো ও অনিয়মিত ঘুম আর সময়-অসময়ে ফাস্টফুড খাওয়া এখনকার বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর পরিচিত জীবন। শিক্ষার্থীদের এসব অভ্যাসই তাদের শরীরে অস্বস্তি, ক্লান্তি, হজমের সমস্যা ও মাথাব্যথাসহ নানা অসুস্থতার কারণ। এই বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এবং তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ।
শিক্ষার্থীদের ভুল জীবনাচরণ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস দূর করতে শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি ৪০ দিনের একটি চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪০ দিন শিক্ষার্থীদের রাত ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যেতে হবে এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হবে। একই সঙ্গে সকল ধরনের প্রসেসড ফুড থেকে দূরে থাকতে হবে এই ৪০ দিন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এমন ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, একজন ডায়েটিশিয়ান হিসেবে সবসময় বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় শিক্ষার্থীদের আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং আতঙ্কের বিষয় হলো, খুব অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীরা অনেকে অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যেটার মূল কারণ আমি মনে করি ভুল জীবনাচরণ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস। তাই যারা সুস্বাস্থ্য এবং সফল জীবনের প্রত্যাশা করে, তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ। তারা যদি এই ৪০ দিনের চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে পারে তবে তাদের প্রত্যেককে আমার পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। নিজেদের হিসাব নিজেরাই রাখলেই হবে, আমি আমার সকল শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি বিশ্বাস করি। যেকোনো শিক্ষার্থী, যেকোনো তারিখ থেকে শুরু করে টানা ৪০ দিন এটি করার পর আমার সাথে যোগাযোগ করলে, আমার পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
এছাড়াও ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তানভীর আহমেদ জানান “ অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনিয়মিত ঘুম, অপর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই এখন অল্প বয়সে নানা জটিল শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রাই পারে আমাদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে। শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আসুন, সুন্দর আগামী গড়তে আমরা নিজেদের অভ্যাসে পরিবর্তন আনি।”
পাবলিকিয়ান টুডে/ এসএইচ | ফেসবুক







