মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে, যা বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি, সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার ২০তম দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। প্রথম দিনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ ব্যক্তির নিহত হওয়ার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে ১২টি আরব ও ইসলামি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে আবাসিক এলাকা, জ্বালানি স্থাপনা, পানি শোধনাগার, বিমানবন্দর ও কূটনৈতিক স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি হামলারও সমালোচনা করে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে হেবরনের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানায় তিন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সামরিক আগ্রাসন’ এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব তুলে ধরেন এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে এক সুইডিশ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাও উঠে আসে।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্পাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে চালানো হামলায় এলএনজি স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে কাতারএনার্জি।
এদিকে, কাতারে পুনরায় হামলা হলে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের পূর্ববর্তী হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন অবগত ছিল না এবং কাতারও এতে জড়িত ছিল না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে আর কোনো হামলা হবে না।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের প্রতি অবশিষ্ট আস্থাও সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। রিয়াদে দুটি তেল শোধনাগারে হামলার কথাও নিশ্চিত করেন তিনি।
বিশ্বের মোট এলএনজি উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কাতার থেকে আসে, ফলে দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় এই হামলাকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এ| মূলসূত্র: প্রথম আলো







