টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা আব্দুল হাসেম মিয়ার পাশে দাড়িয়েছেন ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম৷ জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।
টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা আব্দুল হাসেম মিয়ার পাশে দাড়িয়েছেন ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম৷ জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অসহায় এই বৃদ্ধ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহায়তা চাইলে ঢাকার নবনিযুক্ত এই জেলা প্রশাসক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন৷
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছিলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীপুরের আব্দুল হাসেম। চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাওয়ায় চিকিৎসা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এতে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে৷
হাসপাতালে এসেও কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলা হয়৷ টাকার অভাবে সেসব পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে না পেরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে সহযোগিতার কথা বলেন আব্দুল হাশেমের স্ত্রী শাহিদা বেগম৷ পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানতে পেরে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, আব্দুল হাসেমের চিকিৎসা যাতে নিয়মিত ও যথাযথভাবে চালানো যায়, সে বিষয়ে সার্বিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের এই মানবিক সহায়তায় পেয়ে আব্দুল হাসেমের স্ত্রী শাহিদা বলেন, ‘টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আবার বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।’
তিনি বলেন, মিডফোর্ট হাসপাতালে রমজানের আগে ডাক্তার দেখাইছি৷ কিন্তু বেশ কিছু টেস্ট দিয়েছিল কোমর এবং রক্তের৷ তখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি৷ এখন এই সমস্যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে৷ হাত দিয়ে এখন টুপিটাও মাথায় দিতে পারেনা৷ হাতগুলো অবশ হয়ে থাকে৷ বাথরুম করতে গেলেও পড়ে যায়৷ চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ হলে আমরা খুশি৷
তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের ভিটা মাটি নেই৷ ছেলেরা অল্প কিছু টাকা দেয় কিন্তু তা দিয়ে সংসার পুরোপুরি চলেনা৷ সংসারে আমরা দুইজন ছাড়া কেউ নেই৷ আমাদের এই অসময়ে পাশে দাড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসককে আল্লাহ ভালো রাখুক৷
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল কাজ। আব্দুল হাসেমের মতো কেউ যেন শুধুমাত্র টাকার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন—এটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন যেখানে রাষ্ট্রের সবাই যাতে যথাযথ চিকিৎসা সেবা পান৷
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে। মানুষের কষ্ট দেখলে চুপ করে থাকা যায় না। যতটুকু সম্ভব, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে থাকব।
স্থানীয়দের মতে, জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে তার এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।







