দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ওয়েট প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে পানি, রাসায়নিক ও জ্বালানির অপচয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতা ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি সম্ভব।
এই প্রেক্ষাপটে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের উদ্যোগে রাজধানীতে আইইবি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সাসটেইনেবল টেক্সটাইল ওয়েট প্রসেসিং থ্রু ন্যানোটেকনোলজি: ইন্ডাস্ট্রিয়াল অপারচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস” শীর্ষক বিশেষ সেমিনার। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, শিল্প উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রচলিত টেক্সটাইল ওয়েট প্রসেসিং—বিশেষ করে ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ পানি, রাসায়নিক ও বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। ন্যানোপ্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে এই খাতে পানির ব্যবহার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।
তারা আরও জানান, ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কাপড়ে সেলফ-ক্লিনিং, পানি প্রতিরোধী ও অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়। এতে বাংলাদেশি পোশাকপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও চাহিদা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি। তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আধুনিকায়নের জন্য গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। সরকার এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ইঞ্জি. সানজিদা ইসলাম তুলি, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রেজু), বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) কনভেনার ইঞ্জি. শাহরিন ইসলাম তুহিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমানা শাহরিন তানিয়া। তিনি ন্যানোপ্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, শিল্প পর্যায়ে এর ব্যবহার এবং বাস্তবায়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ (সেলিম)। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জানান ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সায়েদুর রহমান। পুরো আয়োজন সঞ্চালনা করেন ডিভিশনের সম্পাদক ইঞ্জি. মো. মুস্তফা-ই-জামান।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উচ্চ বিনিয়োগ ব্যয়, দক্ষ প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানের অভাব এবং ন্যানো-পার্টিকেলের স্বাস্থ্যঝুঁকি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে যৌথ গবেষণা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ন্যানোপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্ক ছাড় ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও জানান তারা।
পাবলিকিয়ান টুডে/ এম | ফেসবুক







